প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬ ২১:০০ (বৃহস্পতিবার)
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ নদীভাঙন, বিলীন ঘরবাড়ি-ফসলি জমি

ছবি: সংগৃহীত

টানা অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন ও প্রবল স্রোতে নদী তীর ধসে একের পর এক বসতঘর, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, আবার কেউ ভাঙনের আতঙ্কে বসতঘর খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। তাছাড়া মৌসুমী সবজি, আউস, আমনের বীজতলারর ব্যাপক ক্ষতি ও প্রায় ২ শতার্ধিক পুকুরের মাছ নদীর পানিতে ভেসে গেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সোনাই ও কাষ্টি নদীর পাড় ভেঙ্গে বহরা, চৌমুহনী, শাহজাহানপুর,ছাতিয়াইন, বুল্লা, বাঘাসুরা এবং পৌরসভার একাংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মৌসুমী সবজি, আউস, আমনের বীজতলা ব্যাপক ক্ষতি ও প্রায় ২ শতার্ধিক পুকুরের মাছ নদীর পানিতে ভেসে গেছে। আজও বৃষ্টি পড়া বন্ধ না হওয়ায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে নদীতে সৃষ্টি হওয়া তীব্র স্রোত তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি করে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদে।

ভুক্তভোগী জসিম মিয়া জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন দেখা দিলেও এবার পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ। ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রামের অসংখ্য পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। নদীগর্ভে চলে গেছে আবাদি জমির বড় একটি অংশ। ফলে একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে জীবিকার প্রধান অবলম্বন কৃষিজমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

নদী ভাঙনের কারণে একাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙনের বিস্তার অব্যাহত থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, টানা অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি টানা অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমী সবজি, আউস, আমনের বীজতলা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠে আমার কর্মীরা কাজ করছে। বিকালে ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুর রহমান জানান, উপজেলায় প্রায় ২ শতার্ধিক পুকুর নিমজ্জিত হয়ে মাছগুলো পানিতে ভেসে গেছে।

চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান, নদী ভাঙনের কারণে একাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি জানান, হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুরচুনারুঘাট আসনের সংসদ সদস্য এস.এম.ফয়সল মহোদয়ের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা পরিদর্শন ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ত্রাণ তহবিল থেকে জরুরী খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।