প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬ ২১:৪৮ (বৃহস্পতিবার)
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে? যা বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা

ছবি: শেখ হাসিনা।

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে কী কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে নানামুখী মতামত দিচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি তার বাংলাদেশে ফেরার গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর প্রসিকিউশন ও দেশের শীর্ষ আইনজীবীরা এর আইনি কাঠামো ব্যাখ্যা করেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দণ্ডিত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই। ভারতের সাথে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে যেমন ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তেমনি তিনি চাইলে নিজেও এসে আত্মসমর্পণ করতে পারেন।

তবে প্রসিকিউটর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পলাতক অবস্থায় তিনি কোনো আইনি সুবিধা পাবেন না; তাকে ট্রাইব্যুনালেই আত্মসমর্পণ করতে হবে।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় শেখ হাসিনার বর্তমানে কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই। এক্ষেত্রে ফিরে আসার জন্য সরকারের কাছ থেকে তাকে ‘ট্রাভেল পাস’ সংগ্রহ করতে হবে।

আইনি বিধান অনুযায়ী, রায়ের এক মাসের মধ্যে আপিল করার কথা থাকলেও শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান জানান, যথাযথ বিচার নিশ্চিতের স্বার্থে এবং উচ্চ আদালতের প্রচলিত নজির অনুযায়ী দীর্ঘদিন পরেও আপিল করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে এর জন্য প্রথমে জেলখানায় যেতে হবে এবং আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আপিলের বিলম্বিত আবেদন মঞ্জুর হতে হবে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার উদাহরণ টেনে আইনজীবীরা জানান, পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের পর আপিল বিভাগ বিশেষ অনুমতিতে আবেদনের সুযোগ দিয়েছিল।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, গত ১ এপ্রিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি ল’ ফার্মের মাধ্যমে শেখ হাসিনা একটি চিঠি পাঠিয়ে তার অনুপস্থিতিতে হওয়া বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

তবে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সেই চিঠির প্রেরক ল’-ফার্মের অস্তিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও পরবর্তী আইনি লড়াই এখন দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।