প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৩ (শনিবার)
নবম পে-স্কেলের অর্থের উৎস জানতে চায় আইএমএফ

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের উৎস এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশার মধ্যে এই বাড়তি ব্যয়ের সক্ষমতা যাচাই করতে চায় সংস্থাটি। আগামী ১২-১৬ জুলাই ঢাকা সফরকালে আইএমএফ প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে এ বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণের নতুন প্যাকেজ নিয়ে আলোচনার প্রথম দিনেই নবম পে-স্কেল এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বরাদ্দ নিয়ে দুটি পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চলতি বাজেটে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন, যা জুলাই মাস থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এই খাতে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা মূলত থোক বরাদ্দ থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বার্ষিক প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হবে। এই বিশাল অংকের জোগান সরকারের বর্তমান রাজস্ব কাঠামো দিয়ে কতটা সম্ভব, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, বাংলাদেশের প্রধান দুর্বলতা হলো জিডিপির তুলনায় নিম্ন কর আদায়। এই অবস্থায় বড় ধরনের ব্যয় কর্মসূচি হাতে নেওয়ার আগে আয়ের নিশ্চিত উৎস থাকা জরুরি, অন্যথায় বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে, যার ওপর কড়া নজর রাখছে বৈশ্বিক দাতা সংস্থাটি।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ এবং অর্থনীতিবিদ এম মাসরুর রিয়াজের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেতন বাড়ানো যৌক্তিক হলেও, এর সাথে উৎপাদনশীলতা ও রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়নের সমন্বয় থাকতে হবে। আইএমএফের আসন্ন এই সফর কেবল ঋণ অনুমোদনের জন্য নয়, বরং দেশের রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা এবং জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর মতো কঠোর শর্তাবলির একটি রূপরেখা তৈরি করবে। শেষ পর্যন্ত সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সংস্কার বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করছে নতুন ঋণ কর্মসূচির সফলতা।