ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে চলমান বন্যা পরিস্থিতি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে একই সময়ে সিলেট, রংপুরসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে। তবে ফেনী ও খাগড়াছড়ির নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হলেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সব পরীক্ষা কেন্দ্রকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিষয়টি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার জন্য জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য ও তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার কাজে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে অবস্থান করছেন।
সরকার আরও জানিয়েছে, ভারি বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।