প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৬ ২১:০৯ (শনিবার)
পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা সরকারের: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ছবি: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি।

আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ লক্ষ্যে বর্তমানে দেশের ১১০টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থানমুখী ট্রেড কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দালালচক্রের প্রতারণা নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানো, প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি, প্রশিক্ষণের তদারকি ও সনদায়ন, বিদেশে শ্রমকল্যাণ উইং থেকে ডিমান্ড লেটার বা ভিসা সত্যায়ন এবং বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুসহ পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সহজ করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য হলেও ইরান, লেবানন ও সিরিয়াসহ অঞ্চলটির অস্থিরতার কারণে কর্মী পাঠানো কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প বাজার খোঁজা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে চুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউরোপের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানো সহজ করতে নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালের মতো দেশের ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, ইরানে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে সংশ্লিষ্ট দেশেই দাফন করা হয়েছে এবং ৯ জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ জন শিশুসহ মোট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।