ছবি: সংগৃহীত
সিলেট বিভাগে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যার আশঙ্কা প্রবল হলেও যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিলেট অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় প্রশাসন বোর্ডকে আশ্বস্ত করেছে যে, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব এবং পরিবেশ এখনো অনুকূলে রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই কালকের আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) পরীক্ষা যথানিয়মে আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আজ বিকেলে বন্যা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শনিবারের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও সিলেটের ব্যাপারে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শে সিলেটের পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে চট্টগ্রাম ছাড়াও মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তিন দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের চার জেলায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। মৌলভীবাজারের মনু ও হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি ইতিমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
সুরমা ও কুশিয়ারার পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। একই সাথে উত্তরাঞ্চলেও তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তবুও পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেটের পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হয়ে যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।