ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঐতিহাসিক জৈন্তেশ্বরী মিউজিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজন করা মাসব্যাপী শিল্প ও পণ্য মেলা স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সংরক্ষিত পুরাকীর্তি এলাকায় মেলার অবকাঠামো নির্মাণের সময় ঐতিহাসিক স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিবর্তন করা হয়েছে- এমন অভিযোগ ওঠার পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিলেট আদিবাসী মহিলা উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে মেলার প্রস্তুতিকালে জৈন্তেশ্বরী মিউজিয়াম ভবনের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদের ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিকরা প্রতিবাদ জানান। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত জৈন্তাপুরের বাসিন্দারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম-সিলেট বিভাগের কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি এলাকায় মেলা বন্ধের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পর জৈন্তেশ্বরী মিউজিয়াম প্রাঙ্গণে শিল্প ও পণ্য মেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, মেলার আয়োজক সংস্থা মিউজিয়াম ভবনের প্রবেশমুখে ভেঙে পড়া ছোট গেট পুনর্নির্মাণসহ কিছু মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছে।
মেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ায় জৈন্তাপুরবাসী প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম-সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোছা. নাহিদ সুলতানা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে জৈন্তেশ্বরী মিউজিয়ামসহ জৈন্তাপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ প্রকল্পের প্রাথমিক জরিপের দায়িত্ব পেয়েছেন স্থপতি ও নাট্যকার শাকুর মজিদ। তিনি সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন করে সংরক্ষণযোগ্য ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হলো- মুক্তাপুরে রাজা বিজয় সিংহের স্মৃতি সমাধিসৌধ, সারীঘাটের ঐতিহাসিক ঢুপী মঠ, জৈন্তেশ্বরী মিউজিয়াম ভবন, জৈন্তিয়া রাজবাড়ি, বড়-দেউল (পর্যবেক্ষণ টাওয়ার) এবং মোকামবাড়ির সেনাপতি ফতেহ খাঁ মসজিদ।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হলে জৈন্তিয়া রাজ্যের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনা নতুন করে বিকশিত হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার সংরক্ষিত থাকবে।