প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৮ (সোমবার)
বিএনপিতে যোগ দেওয়া হেভিওয়েট নেতারা ‘পরিচয় সংকটে’!

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় ধরনের রাজনৈতিক চমক সৃষ্টি করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন একঝাঁক ‘হেভিওয়েট’ নেতা। বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি দলের শীর্ষপদে থাকা এসব নেতা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পর দল বিলুপ্ত বা পদত্যাগ করে ধানের শীষের ছায়ায় সমবেত হন। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাস পার হলেও বর্তমানে এই নেতারা রাজনৈতিকভাবে ‘পরিচয় সংকটে’ ভুগছেন বলে দলের অন্দরমহলে গুঞ্জন উঠেছে।

প্রদত্ত তথ্যমতে, বিএনপিতে যোগ দেওয়া আট নেতার মধ্যে সাতজন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন, যাদের মধ্যে তিনজন সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নির্বাচিত হয়েও মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া বা প্রতিমন্ত্রী হয়েও দলে কোনো পদ না থাকায় তৃণমূল বিএনপিতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে সাধারণ সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত থাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের অনেকেরই দূরত্ব বাড়ছে। এমনকি যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, তারাও রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দলের নীতিনির্ধারক ও দলীয় চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ড. রেজা কিবরিয়া, ববি হাজ্জাজ ও শাহাদাত হোসেন সেলিম- যারা সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে ড. রেদোয়ান আহমদ, সৈয়দ এহসানুল হুদা, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং রাশেদ খান নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারায় বর্তমানে দলীয় পদবীহীন অবস্থায় আছেন। ত্যাগী নেতারা অভিযোগ করছেন, নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে আসায় তাদের অনুসারীরাও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদা জানান, কৌশলগত কারণে দল বিলুপ্ত করে তারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং আশা করছেন দল দ্রুতই তাদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রদান করবে।

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও আন্দোলনের ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে হাইকমান্ডের মূল্যায়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে বিএনপি নীতি-নির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুনদের মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত আছেন এবং আগামী কাউন্সিল বা সুবিধাজনক সময়ে তাদের সাংগঠনিক পদ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

যুগান্তর।