প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬ ২২:০০ (সোমবার)
জার্মানির রেকর্ডে চোখ আর্জেন্টিনার

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। রেকর্ড ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞে গত এক মাসে সম্পন্ন হয়েছে ১০০টি রোমাঞ্চকর ম্যাচ। টুর্নামেন্টের সমীকরণ এখন শেষ পর্যায়ে; বাকি রয়েছে কেবল দুটি সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এবং বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। তবে এবারের আসরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- ফুটবল বিশ্ব নতুন কোনো চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে না। সেমিফাইনালের লাইনআপ নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, পূর্বের কোনো শিরোপাধারী দলের হাতেই উঠতে যাচ্ছে এবারের সোনালি ট্রফি।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এ পর্যন্ত ২২টি আসরে মাত্র ৮টি দেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে রেকর্ড পাঁচবারের জয়ী ব্রাজিল ২০০২ সালের পর থেকে তাদের হেক্সা মিশনের খরা কাটাতে ব্যর্থ হচ্ছে; এবারও তাদের বিদায় নিতে হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই। একই দশা চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিরও।

১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে বিশ্বজয় করা জার্মানরা গত তিন বিশ্বকাপ ধরে নিজেদের নামের প্রতি বিচার করতে পারছে না।

অন্যদিকে, চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালির দুর্দশা সবচেয়ে প্রকট; গত দুই দশকের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় এবারও তারা মূল আসরে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকেও এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে।

সেমিফাইনালের মঞ্চে এখন লড়াই হবে আধুনিক ফুটবলের চার পরাশক্তির মধ্যে- আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড।

রোববার সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের পর এটি হবে আলবিসেলেস্তেদের চতুর্থ শিরোপা জয়ের সুযোগ। এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানি ও ইতালির চারবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসাবে ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটি।

অন্যদিকে, বর্তমান ফুটবলের অন্যতম সফল দল ফ্রান্স তাদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা গত আসরেও রানার্সআপ হয়েছিল। এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন এই ফরাসি বাহিনী এবারও হট ফেভারিট হিসেবে সেমিফাইনালে লড়বে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে।

অন্য সেমিফাইনালে ১৯৬৬ সালের শিরোপাধারী ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার। অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশেলে এই চার সাবেক চ্যাম্পিয়নের লড়াই এখন বিশ্ব ফুটবলের মূল আকর্ষণ। ১৫ জুলাইয়ের ফাইনালে কার মাথায় উঠবে বিশ্বসেরার মুকুট, তা দেখতে উন্মুখ পুরো বিশ্ব।