প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১৬:২৭ (মঙ্গলবার)
পুলিশের নতুন নীতিমালা: শুরুতেই বদলি অর্ধ সহস্র

পুলিশ বাহিনীতে স্বচ্ছতা ও পেশাদারি বজায় রাখতে বড় ধরনের রদবদল ও কড়াকড়ি নীতিমালা কার্যকর করা শুরু হয়েছে। নতুন এই পদায়ন নীতিমালার আলোকে গত এক মাসে ৪৩৩ জন পুলিশ সদস্যকে তাদের নিজ জেলার মহানগর পুলিশ ইউনিট থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃতদের মধ্যে ৩৮১ জনই কনস্টেবল। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কোনো পুলিশ সদস্যই এখন থেকে নিজ জেলার মহানগরে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে জনবল ও বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) এই নিয়মের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া ৪৩৩ জনের মধ্যে ৪৩ জন এসআই (নিরস্ত্র), ৪ জন সার্জেন্ট, ৩ জন এসআই (সশস্ত্র), ২ জন টিএসআই এবং ৩৮১ জন কনস্টেবল রয়েছেন। এরই মধ্যে এএসপি তদূর্ধ্ব পর্যায়ের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তার একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাদের নিজ জেলার মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে দ্রুতই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের মতে, নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করলে আত্মীয়তা ও সামাজিক সম্পর্কের কারণে অনেক সময় আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বা অপরাধী চক্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠার ঝুঁকি এড়াতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ সদস্য একটি ইউনিটে দুই বছরের বেশি কাজ করার পর বদলির যোগ্য হবেন। কোনো রেঞ্জ বা নির্দিষ্ট জেলায় নির্দিষ্ট মেয়াদের বেশি অবস্থান করা যাবে না। তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই সরকারি চাকরিজীবী হলে তাদের কাছাকাছি এলাকায় পদায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন সদস্যদের ক্ষেত্রে নিয়মের কিছুটা শিথিলতা থাকলেও প্রশাসনিক কারণে বদলি হওয়া সদস্যদের আদেশ কোনোভাবেই বাতিল হবে না।

পার্বত্য জেলাগুলোতে পদায়নের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে নতুন নিয়ম। একজন পুলিশ সদস্য তার পুরো চাকরিজীবনে পার্বত্য অঞ্চলে একবারই পদায়িত হবেন, তবে স্বেচ্ছায় চাইলে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাবেন। এছাড়া বিভাগীয় এসআইদের মহানগরে পদায়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এইচএসসি পাসের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে কর্মকর্তাদের ছুটি ও বদলি সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ২১ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৭ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে।