ছবি: সংগৃহীত
দেশের ৯ জেলায় চলমান স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থেকে অবনতির দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি বা নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের ৪টি নদীর পানি বিভিন্ন স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতকে সুরমা ও মারকুলিতে কুশিয়ারা, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে।
এদিকে, উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে পাহাড়ি ঢল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে এবং এই উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সর্তকবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের পাশাপাশি ভারতের উজানে আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্যাকবলিত ১১ জেলার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিপন্ন মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।