ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের অধিগ্রহণকৃত ভূমির ন্যায্য মূল্যের দাবিতে গ্যাসক্ষেত্রের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সংক্ষুব্ধ ভূমির মালিকরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে কোনো সমাধান না পেয়ে কয়েক বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে মালিকপক্ষ এই কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় ৯ বছর আগে ভূমি অধিগ্রহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত পাওনা টাকা না মেলায় কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র ও জমির মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালের দিকে বাপেক্স জকিগঞ্জের আনন্দপুর এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে গ্যাসের সন্ধান পায়। পরবর্তীতে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে সিলেটের জেলা প্রশাসক ওই এলাকার প্রায় ১৬ কেদার (কিয়ার) ভূমি অধিগ্রহণ করেন। কিন্তু অধিগ্রহণের প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও জমির মালিকদের পাওনা বুঝিয়ে না দিয়েই খনন কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শুরু থেকেই মালিকপক্ষ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, রাজনীতিবিদ আব্দুস সালাম, শিহাব উদ্দিন, মোস্তফা আহমদসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করে বর্তমানে যে দর প্রস্তাব করা হয়েছে তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত এক সভায় মালিকপক্ষকে ডাকা হলেও সেখানে কোনো সন্তোষজনক সুরাহা হয়নি।
জকিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ফারুক আহমদ বলেন, ‘মূলত জাতীয় স্বার্থ এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাসে মালিকপক্ষ একসময় নমনীয় থাকলেও কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। বারবার টালবাহানায় অতিষ্ঠ হয়েই তারা আজ গ্যাস ফিল্ডে তালা দিতে বাধ্য হয়েছেন।’
জমির মালিক ও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার জানান, ২০২৪ সালে এসে প্রশাসন যে মূল্য নির্ধারণ করেছে তা অত্যন্ত সামান্য। দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে বর্তমান বাজারদরে টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন থেকে সরবেন না।
এদিকে সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি সদ্যই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।