সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ কলেজের শতবর্ষের ইতিহাসে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতটি এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ওই রাতে সংঘটিত একটি নৃশংস ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
সেদিন সন্ধ্যায় এক তরুণী তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটের শাহপরান মাজার এলাকা ঘুরতে যান। ফেরার পথে রাতের দিকে তারা এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক ওই দম্পতিকে একটি প্রাইভেটকারসহ কলেজ ছাত্রাবাস এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের ছেড়ে দিলে ভুক্তভোগীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান এবং শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমসি কলেজসহ সিলেটজুড়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক আসামির সম্পৃক্ততার প্রমাণও পাওয়া যায়।
নৃশংস এই ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধ হিসেবেই নয়, বরং দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা, ছাত্ররাজনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। সময়ের ব্যবধানে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে এখন এই বহুল আলোচিত মামলার রায়ের অপেক্ষায় দেশবাসী।