সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুর রহমান আবারও আলোচনায়। রায়ের পর নতুন করে সামনে আসছে তার পরিচয়, অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। তবে ঘটনার সময় তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলো উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়ভাবে সাইফুর ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। এমসি কলেজ ছাত্রাবাস এলাকায় তার প্রভাব ছিল। তাছাড়া গ্রুপটি টিলাগড় ও আশপাশ এলাকায় ছিনতাইচক্রের সাথে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিনই তার বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলা হয় অস্ত্র আইনে। ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শাহপরান থানার এসআই মিল্টন সরকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে ভোররাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষে অভিযান চালিয়ে একটি পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহপরান থানার তৎকালীন ওসি কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এসব তথ্য তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগকে আরও জোরালো করে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বহুল আলোচিত এই মামলার রায়ের পর সাইফুর রহমানের পরিচয় ও অতীত কার্যকলাপ নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।