২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দায়িত্ব পালনকারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিরুদ্ধে আগের পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এবার মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ওসিদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শতাধিক ওসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দেশের ৬৪ জেলার থানা ও তৎকালীন ছয়টি মহানগর পুলিশের আওতাধীন থানাগুলোর ওসিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বর্তমান পদায়ন, চাকরির অবস্থা, পদমর্যাদা ও প্রশাসনিক অবস্থান যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় বর্তমানে কর্মরত, অবসরে যাওয়া, পদোন্নতি পাওয়া কিংবা অন্য ইউনিটে কর্মরত সব ধরনের কর্মকর্তার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচনের সময় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ পরিদর্শকদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী ৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তাদের অধিকাংশই তখন এসপি বা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) পদে ছিলেন। যদিও সরকারি আদেশে জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের মতে নির্বাচনে তাদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ছিল।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগের রাতে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখা হয়। রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই নির্বাচনে ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছিল, ১২২টি কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৯৯ শতাংশ বা তার বেশি এবং ৭ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ। এছাড়া ভোটের দিন বিপুলসংখ্যক ভোটারকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সূত্র- আমাদের সময়