মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও দেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ সীতেশ রঞ্জন দেব মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতেশ রঞ্জন দেবের নাতি রাজদ্বীপ দেব। তিনি বলেন, আজ সকালে হঠাৎ করে সীতেশ রঞ্জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রওনা হন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান।
সীতেশ রঞ্জন দেব দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ বেলা ২ টার দিকে শ্রীমঙ্গলের নিজ গ্রামে নোয়াগাও তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।
সীতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।
দেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের পরিচিত এই মুখ ‘সীতেশ বাবু নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি কয়েক দশক ধরে আহত, অসুস্থ ও বিপন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা, পুনর্বাসনের কাজ করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রাণীগুলোকে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে তাঁর প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বন্য প্রাণী হত্যা ও পাচার প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও জনসচেতনতা তৈরিতে তিনি কাজ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বন্য প্রাণীর প্রতি সীতেশ রঞ্জনের আগ্রহের শুরু কৈশোরে। বাবা শিরীষ রঞ্জন দেবের সঙ্গে তিনি পশুপাখি পালন ও শিকারে যেতেন। সে সময় দেশে বন্য প্রাণী শিকারে তেমন কঠোর বিধিনিষেধ ছিল না। ১৯৮৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনিও কিছুদিন শিকার করেন। পরে প্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে শিকার ছেড়ে বন্য প্রাণী উদ্ধারে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
প্রথমে শ্রীমঙ্গল শহরের মিশন রোডে নিজ বাড়ির আঙিনায় আহত বন্য প্রাণীর চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য একটি ছোট সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলেন সীতেশ রঞ্জন। সেটি পরে পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার বাগানবাড়িতে স্থানান্তর করা হয়। পরে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে এটি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
গত কয়েক দশকে এই প্রাণীপ্রেমীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা পেয়ে হাজার হাজার বন্য প্রাণী সুস্থ হয়ে প্রকৃতিতে ফিরে গেছে। বন বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ লোকালয়ে বিপন্ন বন্য প্রাণী দেখলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিতেন।
সীতেশ রঞ্জন অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর দুই ছেলে স্বপন দেব সজল ও সঞ্জিত দেব বাবার অনুপ্রেরণায় বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সেবার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।