প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২১ (বৃহস্পতিবার)
আগস্ট থেকে শুরু টাইফয়েড টিকা: কারা পাবেন?

দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের মারণঘাতী ঝুঁকি থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ আগস্ট থেকে জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) স্থায়ীভাবে যুক্ত হচ্ছে ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন’ (TCV)। সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারিকৃত এক বিশেষ নির্দেশনায় এই মাইলফলক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালে সফল ক্যাম্পেইন পরিচালনার পর এবার নিয়মিত টিকাদানের তালিকায় এই গুরুত্বপূর্ণ টিকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শুধুমাত্র ১৫ মাস বয়সি শিশুরা এই টাইফয়েড টিকার ১টি ডোজ পাবে। টিকাদান সেশনে শিশুদের এমআর-২ (MR-2) টিকার সঙ্গেই টাইফয়েডের টিকাটি প্রদান করা যাবে। সরকারি স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রসমূহ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবা মিলবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নিবন্ধনে বিশেষ জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অভিভাবকদের ‘ভ্যাক্স : ইপিআই’ (Vax EPI) অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন নিশ্চিত করে ডিজিটাল কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। টাইফয়েড ভ্যাকসিন ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত করবেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সহায়তায় সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক ও মাইকিং করা হবে। মূলত টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে এবং অন্ত্র ছিঁড়ে যাওয়ার মতো প্রাণঘাতী জটিলতা এড়াতে এই টিকা ৫০ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে ব্যথার মতো মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা দ্রুতই সেরে যায়। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, টিকা শতভাগ সুরক্ষা দেয় না, তাই বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যকর খাবারের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। শিশুদের মারাত্মক এই রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে যোগাযোগ করে টাইফয়েড টিকা নিশ্চিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।