প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬ ২৩:০৬ (বৃহস্পতিবার)
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড দ্বৈরথ: ৫ ব্যক্তিগত লড়াইয়ের দিকে নজর

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি ইতিহাস, আবেগ, প্রতিশোধ আর স্বপ্নের মিলিত মঞ্চ। বুধবার রাতে সেই মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী; আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে আবার এই দুই দলের দেখা, আর ২১ বছর পর যেকোনো প্রতিযোগিতায় তাদের মুখোমুখি লড়াই।

এই ম্যাচে শুধু দুটি দেশের জার্সিই লড়বে না; লড়বে দুই ফুটবল দর্শন, দুই প্রজন্মের নায়ক এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। মাঠের প্রতিটি ঘাস যেন অপেক্ষা করছে নতুন কোনো মহাকাব্য রচনার জন্য।

মেসি বনাম রাইস: জাদুকরের পথ আটকে দেওয়ার যুদ্ধ

লিওনেল মেসিকে থামানোর কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলা এখনো কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি। তিনি কখনও মাঝমাঠে, কখনও ডান প্রান্তে, আবার হঠাৎই বক্সের সামনে হাজির হন। সেই অনিশ্চয়তার বিপরীতে ইংল্যান্ডের ভরসা ডেক্লান রাইস।

রাইসের দায়িত্ব হবে মেসিকে জায়গা না দেওয়া, তাঁর দিকে আসা পাসের পথ বন্ধ করা এবং বল পেলেও এগোতে না দেওয়া। কিন্তু প্রশ্ন একটাই; একজন মানুষ কি সত্যিই মেসিকে থামাতে পারেন?

কেইন বনাম রোমেরো: শক্তির বিপরীতে শক্তি

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন যেন গোলের গন্ধ শুঁকে নিতে পারেন। আর তাঁকে থামানোর দায়িত্ব আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের প্রাণ ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর।

দুজনই একসময় ক্লাব সতীর্থ ছিলেন। তাই একজন আরেকজনের শক্তি-দুর্বলতা ভালোই জানেন। কেনের বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্টের বিপরীতে রোমেরোর আগ্রাসী রক্ষণ;এই লড়াই পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

বেলিংহ্যাম বনাম দি পল: মাঝমাঠের হৃদস্পন্দন

যুবক জুড বেলিংহ্যাম এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় শক্তি। তাঁর গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও বক্সে ঢুকে পড়ার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর।

অন্যদিকে রদ্রিগো দি পলকে অনেকেই বলেন মেসির 'বডিগার্ড'। তিনি দৌড়ান, লড়েন, বল কাড়েন এবং প্রয়োজন হলে নিজের শরীরও বিলিয়ে দেন। মাঝমাঠের এই লড়াইয়ে যে দল এগিয়ে থাকবে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও সম্ভবত তাদের হাতেই থাকবে।

সাকা বনাম নিকোলাস: প্রান্তের আগুন

বুকায়ো সাকার গতি এবং ভেতরে কাট করে ঢুকে পড়ার দক্ষতা ইংল্যান্ডের বড় অস্ত্র।

আর্জেন্টিনার বাঁ-প্রান্তে নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকোকে তাই এক মুহূর্তের জন্যও অসতর্ক হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সাকার একটি সফল দৌড়ই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

মার্তিনেজ বনাম পিকফোর্ড: যদি গল্প যায় টাইব্রেকারে...

ফুটবল কখনও কখনও ১২০ মিনিটেও সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তখন ভাগ্য নির্ধারণ করে টাইব্রেকার।

সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ মানেই প্রতিপক্ষের মনে ভয়। মানসিক খেলায় তিনি এক অনন্য চরিত্র। অন্যদিকে জর্ডান পিকফোর্ডও ইংল্যান্ডের হয়ে একাধিকবার টাইব্রেকারে নায়ক হয়েছেন।

যদি ম্যাচ সেই পথে গড়ায়, তাহলে গ্লাভস পরা দুই নায়কের চোখের ভাষাই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় নাটক।

ইতিহাসের ছায়া, ভবিষ্যতের ডাক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনাল আর্জেন্টিনার জন্য বরাবরই সৌভাগ্যের মঞ্চ। আলবিসেলেস্তেরা কখনও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারের তিক্ত স্বাদ পায়নি। সেই রেকর্ড ধরে রেখে আবারও ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে লিওনেল স্কালোনির দল।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড চাইছে বহু বছরের অপেক্ষা ভেঙে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালের দরজা খুলতে।

ফুটবল হয়তো ৯০ মিনিটের খেলা। কিন্তু কিছু ম্যাচ সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে কিংবদন্তি হয়ে যায়। আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড; এমনই এক রাত, যেখানে একটি পাস, একটি ট্যাকল, একটি সেভ কিংবা একটি মুহূর্ত লিখে দিতে পারে নতুন ইতিহাস।

আর কোটি কোটি সমর্থক অপেক্ষা করবেন, শেষ বাঁশি বাজার পর কোন আকাশে উড়বে বিজয়ের নীল-সাদা, নাকি সাদা-লাল পতাকা।