প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫৭ (বুধবার)
দিল্লিতে উত্তপ্ত সংসদ চত্বর: বাধার মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির অভিযান

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পার্লামেন্ট চত্বর।

সোমবার (২০ জুলাই) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে আয়োজিত সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কয়েক দফা দফায় তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলেও সব বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসদের প্রধান ফটকটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায়।

প্রতক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মী যন্তর মন্তরে জড়ো হন। তারা মিছিল নিয়ে সেন্ট্রাল দিল্লির প্রধান সড়কগুলো দিয়ে পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হলে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। এসময় আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে শুরু হয় প্রবল ধস্তাধস্তি। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অনেককে আটক করে প্রিজন ভ্যানে সরিয়ে নিয়েছে পুলিশ।

সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, তারা গণতান্ত্রিক পন্থায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন, কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে দমনমূলক আচরণ করেছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে অভিজিৎ দীপকে নামক এক তরুণ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন করেন যা খুব অল্প সময়েই ছাত্র-যুবক ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এর আগে প্রখ্যাত অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক অনশন থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি আজকের কর্মসূচিতে বাড়তি উত্তেজনার ইন্ধন জুগিয়েছে।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারা পেশাদারত্বের সঙ্গেই বিক্ষোভ সামাল দিচ্ছেন। বর্তমান সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন, তাই পুরো এলাকায় নজিরবিহীন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে অনুরোধ জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।