প্রকাশিত : ২০ জুলাই, ২০২৬ ২১:১৩ (বুধবার)
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭০০ কোটি ডলার

ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের উম্মাদনা কি শুধু মাঠের আনন্দ আর গ্যালারির গর্জনেই সীমাবদ্ধ? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে। মাঠের খেলায় যখন মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে কিংবা ইয়ামালের পায়ের জাদু দেখতে কোটি কোটি মানুষ বুঁদ হয়ে থাকছেন, তখন কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতায় পড়ছে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এর প্রভাব সবচেয়ে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

মানবসম্পদ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউকেজি (UKG)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার নেশায় কর্মীদের অনুপস্থিতি, অফিসে দেরিতে আসা এবং কাজে মনোযোগ কমে যাওয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। দেশটিতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘এনভয়’-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জাতীয় দলের ম্যাচের দিনগুলোতে অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নেওয়ার পরদিন অফিসগুলোতে কর্মীদের উপস্থিতি হঠাৎ ২৬ শতাংশ কমে যায়। এই অনুপস্থিতির হার যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় আয়োজন ‘সুপার বোল’ ফাইনালের পরদিনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজার বিশ্লেষকরা এই দিনটিকে ‘নকআউট টিউসডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে চাকরির সাক্ষাৎকার বা ব্যবসায়িক বৈঠকের হারও ৩২ শতাংশ কমে যায়।

বিশ্বকাপের এই জোয়ারে কাজের ক্ষতি সামাল দিতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করছে ভিন্নধর্মী কৌশল। জেপি মরগান চেস, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এসঅ্যান্ডপির মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাচের দিনগুলোতে কর্মীদের যানজট ও বিড়ম্বনা এড়াতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। তবে দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার সাথে সাথে কাজের মনোযোগ ও স্বাভাবিকতা ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করে।

বড় কোনো ক্রীড়া আসর বা বিনোদনমূলক ইভেন্টে কর্মক্ষেত্রে এমন প্রভাব পড়া নতুন কিছু নয়। এর আগে অলিম্পিক গেমস কিংবা ২০২৩ সালে ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফুটবল প্রেমের এই বিশাল মাশুল একদিকে যেমন বিড়ম্বনার, তেমনি এটি প্রকাশ করে আধুনিক বিশ্বে ফুটবলের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার চিত্রও।