সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তৈরি হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। ভিডিওটি নিয়ে প্রথমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরির দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে জামায়াত নেতার পক্ষ থেকে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার রাত থেকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে এমপি গাজী নজরুলকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলা জামায়াতের মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ শুরুতে এটি এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বলে প্রচার চালায়। তবে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই দাবিতে কোনো সত্যতা পায়নি। তারা জানায়, ভিডিওতে ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো আলামত নেই এবং এটি একটি বাস্তব সিসিটিভি ফুটেজ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এমপি সাহেব নিশ্চিত করেছেন ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই এই বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তরুণীর হাতে থাকা বায়োডাটা অনুযায়ী তার বয়স মাত্র ১৮ বছর ২ মাস এবং তিনি নিজেকে অবিবাহিত উল্লেখ করেছেন, যা নিয়ে জনমনে নতুন রহস্য দানা বাঁধছে। জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসের, যদিও ঘটনার প্রকৃত স্থান এখনও অস্পষ্ট।
জামায়াত নেতারা একে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় হিসেবে দাবি করলেও, একটি গোপন ভিডিও কীভাবে প্রকাশ্যে এলো এবং এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার ব্যক্তিগত বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।