ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে পরিচালিত বিতর্কিত নেটওয়ার্ক স্কুল–সংশ্লিষ্ট ১৯ ব্যক্তির অবস্থান এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। তারা এখনো মালয়েশিয়ায় রয়েছেন নাকি অবৈধভাবে দেশ ত্যাগ করেছেন তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান সোমবার ১০৪তম ইমিগ্রেশন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক স্কুল সংশ্লিষ্ট মোট ৪৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১০ জন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং ২০১ জন দেশ ত্যাগ করেছেন। তবে বাকি ১৯ জনের যাতায়াতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাকারিয়া শাবান বলেন, সম্ভবত তারা অবৈধভাবে দেশ ছেড়েছেন কিংবা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছেন। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং তারা এখনও দেশে আছেন নাকি বেরিয়ে গেছেন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
তিনি জানান, এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, জোহর রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
মহাপরিচালক আরও জানান, এ পর্যন্ত নেটওয়ার্ক স্কুলে দুই দফা ইমিগ্রেশন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত ৩৭৯ জন বিদেশির নথিপত্র যাচাই করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর সত্যতা অভিযানে পাওয়া যায়নি।
ফরেস্ট সিটির নেটওয়ার্ক স্কুল নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা দাবি ও প্রশ্ন ওঠে, যেখানে বলা হয়, বিদেশি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ইসরায়েলি নাগরিকেরাও দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন।
এ ঘটনার পর জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন), ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম), রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগ (জেকেডিএম) এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নেটওয়ার্ক স্কুলের কার্যক্রমের ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন।
পরে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের প্রয়োগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে ভিত্তিহীন জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।