প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫২ (বুধবার)
ফেরত দিলে বাংলাদেশ বেনজীরের বিচার করবে: অঙ্গীকার চায় দুবাই

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বেনজীরকে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার এবং কিছু বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চেয়েছে দেশটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ইউএইর পাঠানো চিঠিটি পেয়েছে বাংলাদেশ। চিঠিতে মূলত তিনটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশে এ ধরনের প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ‘সেন্ট্রাল অথরিটি’ বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কোন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানো হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার। কোন আইনি ভিত্তি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নাকি আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় এই প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আমিরাতের চাওয়া ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তার বিষয়গুলো নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র প্রস্তুত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে আমিরাতকে জবাব পাঠানো হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক অনুবিভাগ) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, আমিরাতের চিঠিতে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে এবং বিচার সম্পর্কিত অঙ্গীকারনামা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান বলেন, "আমরা পূর্বে যে তথ্যগুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো ইউএই তাদের নিজস্ব ফরমেটে চেয়েছে। আমরা সেভাবেই তথ্যগুলো প্রস্তুত করে পাঠাচ্ছি।"

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমিরাতের এই চিঠিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা ও প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অনুরোধকারী দেশের আইনি সক্ষমতা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

দুদকের উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, চিঠিতে দুদক সংশ্লিষ্ট যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা কমিশন প্রস্তুত করছে। প্রস্তুত হওয়া মাত্রই তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) তাকে আটক করে। এরপরই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিসহ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র‌্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের আইজিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবসরের পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও মামলার কার্যক্রম গতি পায়। আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

 

সূত্র- কালের কন্ঠ