প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৭ (বুধবার)
সিলেটের ভাঙা সড়ক নিয়ে সিসিক প্রশাসকের ক্ষোভ, আজই সংস্কারের নির্দেশ

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার বেহাল ও খানাখন্দে ভরা সড়ক দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সড়কটি অবিলম্বে সংস্কারের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসী বা যাত্রীরা সড়কের মালিকানা দেখতে চায় না, তারা চায় উন্নত ও চলাচল উপযোগী রাস্তা।

বুধবার সকালে নগরের কদমতলীতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা আকস্মিক পরিদর্শনকালে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেন সিসিক প্রশাসক। সেখানে টার্মিনালের মূল ফটকের বড় বড় গর্ত ও জমে থাকা পানির দৃশ্য দেখিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা বলতে পারেন, আমি প্রশাসক হয়ে কেন গর্ত দেখাচ্ছি, আমি কেন ভরাট করছি না?”

সিসিকের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে মেন্দিবাগ ও কুপাড়পাড়া হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত এই সড়কটির মালিকানা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বারবার এই সড়কটি হস্তান্তরের অনুরোধ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে সওজ তা হস্তান্তর করছে না। এছাড়া বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও সওজ কর্তৃপক্ষ সড়ক মেরামতে কোনো কর্ণপাত করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সওজের উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “গতকালও সওজ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। জনতা ফুঁসে ওঠার আগেই সওজকে অবিলম্বে এই সড়ক সংস্কার করতে হবে।”

তিনি আরও ঘোষণা দেন, জনগণের সাময়িক দুর্ভোগ লাঘবে সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে আজই সড়কটি মেরামত করবে। প্রকৌশলীদের ইতোমধ্যে গর্তগুলো ভরাট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর স্থায়ী সমাধান সওজকেই করতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেটের সভাপতি মঈনুল হক জানান, টার্মিনাল এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি যানবাহনগুলোর যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানিয়েছে, টার্মিনাল এলাকাসহ নগরের ভাঙাচোরা সড়কগুলোর প্রাথমিক সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে স্থায়ী সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান প্রয়োজন।