প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৯ (বুধবার)
আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের স্বজন আটক  ছিলেন! মুখ খুলেছেন পারেদেসের মা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ট্রফি নতুন ঠিকানায় পৌঁছে গেছে। নিউ জার্সির আলো নিভতে শুরু করেছে, দর্শকও ফিরেছেন ঘরে। কিন্তু ফাইনালের শেষ বাঁশির পর যে উত্তাপ ছড়িয়েছিল, তার আঁচ এখনও টের পাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। মাঠের লড়াই শেষ হলেও বিতর্কের ম্যাচ যেন এখনো চলছে মাঠের বাইরেই।
স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। সেই হতাশার মধ্যেই দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে শুরু হয় উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা, যা মুহূর্তেই হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। অভিযোগ, শেষ বাঁশির পর তিনি প্রথমে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন, পরে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। উত্তেজনা থামানো না গেলে রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখান।
মাঠের উত্তেজনা এরপর ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা পরিবারের সদস্যদের কাছে চলে যাওয়ায় পদক বিতরণ অনুষ্ঠান বিলম্বিত হয়। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
আনন্দ বাজার জানায়, স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজন ফুটবলারের পরিবারের সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে অন্তত ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখার তথ্য সামনে এলেও, তাঁদের পরিচয় কিংবা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে ফিফা কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
তবে নীরব থাকেননি পারেদেসের পরিবার। আর্জেন্টিনায় অবস্থানরত তাঁর মা মিরিয়াম বেনিতেজ ছেলের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করি না। লিয়ান্দ্রোও সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলতে গেলে আবেগ অনেক সময় নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমি জানি, দেশের জার্সির মূল্য সে কতটা হৃদয়ে ধারণ করে।’
একজন মায়ের কণ্ঠে ছিল না আত্মপক্ষ সমর্থনের কৃত্রিমতা; ছিল সন্তানের প্রতি নিঃশর্ত বিশ্বাস। যেন তিনি বলতে চাইছিলেন, কখনো কখনো আবেগও দেশের পতাকার মতোই ভারী হয়ে ওঠে।
পারেদেসের বোন বারবারা পারেদেসও ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন,‘বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে নানা বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। যে ঘটনার কথা সবাই বলছে, তার আগে কী হয়েছিল সেটা কেউ দেখছে না। শুধু শেষ দৃশ্য দেখে বিচার করলে পুরো সত্য জানা যায় না।’
তিনি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফকল্যান্ড ইস্যুতে প্রদর্শিত ব্যানার নিয়েও পরিবারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর ভাষায়, ‘ইংল্যান্ডকে হারানো আমাদের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের মতোই ছিল। হয়তো জার্সিতে চতুর্থ তারা যোগ হয়নি, কিন্তু আমরা আমাদের বিশ্বাসের কথা জানিয়ে দিয়েছি।’