ছবি: সংগৃহীত
পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগের দিক থেকে উগান্ডার পাসপোর্ট এখন বাংলাদেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী।
লন্ডনভিত্তিক নাগরিকত্ব ও আবাসন-সংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সর্বশেষ হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স অনুযায়ী, উগান্ডার পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ৬৫টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এ সুযোগ রয়েছে মাত্র ৩৫টি দেশে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে উগান্ডার নাগরিকেরা বাংলাদেশের তুলনায় ৩০টি বেশি দেশে সহজে প্রবেশের সুবিধা পাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়ার সংখ্যার ভিত্তিতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের শক্তি নির্ধারণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশের পাসপোর্টের শক্তি কেবল ভ্রমণের সুবিধাই নয়, বরং সেই দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক অবস্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তিন ধাপ উন্নীত হয়ে ৯৭তম হলেও ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া দেশের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে এসেছে। ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশি নাগরিকেরা ৩৭টি দেশে এই সুবিধা পেলেও সর্বশেষ হালনাগাদে তা নেমে এসেছে ৩৫-এ।
অন্যদিকে উগান্ডা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে তুলনামূলক ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে দেশটির নাগরিকেরা আফ্রিকা, এশিয়া, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশে সহজেই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় এবারও শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকেরা ১৯২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, যার নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে মাত্র ২২টি দেশে।
উগান্ডার পাসপোর্টের এই অগ্রগতি দেখাচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হলেও কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি দেশের নাগরিকদের বৈশ্বিক ভ্রমণ সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।