ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১০ দিন অচল থাকার পর অবশেষে সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের প্রধান ফটকের তালা খোলা হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত ভূমির ন্যায্য মূল্য ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত ১৩ জুলাই থেকে সেখানে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করছিলেন ভূমির মালিকরা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দের মধ্যস্থতায় সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে অচলাবস্থা নিরসন হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে জকিগঞ্জ পৌরসভার আনন্দপুর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) কার্যক্রম শুরু করে। ওই সময় জেলা প্রশাসন প্রায় ১৬ কেদার জমি অধিগ্রহণ করলেও দীর্ঘ সাত বছরেও জমির মালিকরা তাদের প্রাপ্য অর্থ ও ক্ষতিপূরণ পাননি। এর প্রতিবাদে এবং পাওনা আদায়ের দাবিতে গত ১৩ জুলাই তারা গ্যাস ফিল্ডে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিষয়টি সমাধানে জকিগঞ্জের ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ ভূমির মালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের হাতে পেমেন্ট চেক তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি জমির শ্রেণি পরিবর্তন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবে প্রশাসন।
তালা খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা মোস্তাফা আহমদসহ ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকরা। ইকবাল আহমদ তাপাদার জানান, জমির মূল্য বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা আপাতত আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন।
জকিগঞ্জের ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ সংবাদিকদের বলেন, 'ভূমির মালিকদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বর্তমানে গ্যাস ফিল্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।'