প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০২৬ ২২:২২ (শনিবার)
কমলগঞ্জে হাজার গাছের কমলাবাগান নিধন: পরিদর্শন করল তদন্ত কমিটি

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সংরক্ষিত বনভূমির ১ হাজার ২০০টি ফলন্ত কমলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নেমেছে উচ্চপর্যায়ের কমিটি।

বন বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানের নামে গড়ে ওঠা বাগানটি ধ্বংসের নেপথ্যে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা যাচাই করতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজকান্দি বনাঞ্চলের কালিঞ্জি এলাকা পরিদর্শন করেছেন তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি

 কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান। তদন্তকালে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে গঠিত এই কমিটি সব পক্ষের বক্তব্য আমলে নিয়েছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন দ্রুতই সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সরকার পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনের ফলন্ত গাছ কাটার মতো সংবেদনশীল এই ঘটনার ওপর সরাসরি নজর রাখছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালে উপজেলা প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই রাজকান্দি রেঞ্জের কালিঞ্জি এলাকায় বনভূমি দখলমুক্ত করার অভিযানে প্রায় ৫ একর জমির ফল ধরা কমলাবাগান কেটে সাফ করে দেয় প্রশাসন ও বন বিভাগ। বন বিভাগের দাবি, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদেই এই পদক্ষেপ।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত আলীম উল্লার পরিবারের অভিযোগ, আট বছরের কঠোর পরিশ্রম ও বিপুল অর্থ ব্যয়ে গড়ে তোলা বাগানটি ধ্বংসের আগে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। বাগানটি চাঁদা না দেওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই উজাড় করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

বন বিভাগ অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিষয়টি এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্তাধীন। প্রশাসনের এই তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিক মহল।