সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের (চুপ্পু) পদত্যাগ ও অপসারণের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, "একটা প্রাণী আছে যখন পানি খায় ঘোলা করে খায়। আমরা বলেছিলাম, শেখ হাসিনার দোসররা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বা অবস্থানে থাকতে পারে না। আজ যখন সে রাষ্ট্রপতির মসনদে বসে আপনাদেরকে ছোবল মারতে উদ্যত হয়েছে, তখন স্পিকারকে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে হাসপাতাল থেকে ডেকে এনে সেই চুপ্পুকে আপনারা বিদায় করলেন।"
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের আদর্শের ওপর ভিত্তি করে গঠিত বর্তমান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, "যে জুলাই বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন, সেই জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে যদি গাদ্দারি করেন, ক্ষমতার মসনদে থাকবার কোনো অধিকার আপনাদের থাকবে না। জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে গাদ্দারি করবেন না। দোহাই লাগে আপনাদের, প্রথমে পায়ে ধরে বলব, তারপরে হাতে ধরে বলব। যদি পায়ে ধরে হাতে ধরে বললে কথা না শোনেন, ঘাড় ধরতে আমাদের এতটুকু হাত কাঁপবে না।"
১১ দলীয় জোটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, "আমাদের এই ঐক্য শুধুমাত্র ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার জন্য হয়নি। শুধুমাত্র এই ১১টি রাজনৈতিক দলের ভাগ্য গড়ার জন্য আমরা ঐক্য করিনি। আমাদের ঐক্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমাদের এই যাত্রা।"
বিএনপিকে বন্ধু আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অংশীদার ছিলেন আপনারা। তাই আপনাদেরকে আমরা বন্ধু মনে করি। বন্ধু মনে করে আমরা যেমন দেশের কল্যাণ চাই, তেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিরও কল্যাণ চাই। তাই বলতে চাই, যে জুলাই বিপ্লবের ওপর ভিত্তি করে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন, সেই জুলাই বিপ্লবের সাথে যদি গাদ্দারি করেন, ক্ষমতার মসনদে থাকবার কোনো অধিকার আপনাদের থাকবে না।"
গণভোটে জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা না করার আহ্বান জানিয়ে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, "ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আপনাদেরকে, ১৯৭০ এর জাতীয় নির্বাচনের গণরায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা, পরিণামে মুক্তিযুদ্ধকে তাদের ফেস করতে হয়েছিল এবং বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। ৭০ শতাংশ জনগণের এই ম্যান্ডেটের সঙ্গে যদি আপনারা বিশ্বাসঘাতকতার এই ধারা অব্যাহত রাখেন, আপনাদের পরিণাম পশ্চিম পাকিস্তানি স্বৈরগোষ্ঠী এবং শেখ হাসিনার চেয়ে ভিন্ন কিছু হওয়ার কথা নয়।"
সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ভোট প্রদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "এই ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না। এখনো বলছি, গণভোটের গণরায় মেনে নিন। জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করুন। জনগণ যেভাবে ভোটে ম্যান্ডেট প্রদান করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন। অন্যথায় রাজপথে আপনাদেরকে আমরা মোকাবেলা করব, ইনশাআল্লাহ।"
উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই দেশজুড়ে চলমান ধারাবাহিক বিভাগীয় মহাসমাবেশ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটল।