সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় হাম বা হামের উপসর্গে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে এই সময়ে নতুন করে ৯৫ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এতে বিভাগজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭২ জন।
রোববার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে কোনো হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে মোট ল্যাব কনফার্ম হাম রোগীর সংখ্যা ৫৯১ জন (অপরিবর্তিত)। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৩০৭ জন, সিলেটে ১৯৬ জন, হবিগঞ্জে ৬১ জন (দু’জন রুবেলা) ও মৌলভীবাজারে ২৭ জন রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৯৫ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৮ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দু’জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে মোট চিকিৎসাধীন ২৭২ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯০ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৬ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪১ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিনজন, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে তিনজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দু’জন ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম বা হামের উপসর্গে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ফলে বিভাগের মোট মৃত্যুর সংখ্যা আগের মতোই ১০৮ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স রয়েছেন এবং বাকি ১০৭ জন শিশু।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের সময়মতো হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।