প্রকাশিত : ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৬ (রবিবার)
‘বাংলাদেশি’ বলে দম্পতিকে মারধর, বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসক গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে এক দম্পতিকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে ভারতের কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিযোগের পরদিন গ্রেফতার হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বেঙ্গালুরুর বেলান্দুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. নগেন্দ্রাপ্পা। শহরটিতে তার একটি ব্যক্তিগত ক্লিনিক রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. নগেন্দ্রাপ্পা ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করে তাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি করেন। নাসরিনার দাবি, প্রথমে হিন্দি ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করা হয়। স্বামী বিলাল এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। বিলালের মাথা ও পিঠে একাধিকবার আঘাত করা হয় এবং তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়। এমনকি ঘটনাটি পুলিশকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় বেলান্দুর থানায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ওই দম্পতির জাতীয়তা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে অভিযুক্ত চিকিৎসকের দাবি সত্য বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গ্রেফতারের আগে ডা. নগেন্দ্রাপ্পা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ওই দম্পতি বাংলাদেশি এবং এর আগে তাদের ভারত থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, কিন্তু তারা আবার ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে ভিডিওতে মোহাম্মদ বিলালকে কন্নড় ভাষায় বলতে শোনা যায়, তিনি গত ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছেন। ভিডিওতে চিকিৎসককে বিলালের গায়ে হাত তুলতেও দেখা যায়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের একদিন পর শুক্রবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা। তবে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দম্পতির জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ।