প্রকাশিত : ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২২:৪৭ (সোমবার)
শিক্ষা ক্যাডারের বদলি-পদায়নে নতুন নীতিমালা

ছবি: সংগৃহীত

বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় গতি আনতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার।

রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত ‘বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে আবেদন এবং প্রশাসনিক প্রয়োজন- উভয় ক্ষেত্রেই এই নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।

তবে জনস্বার্থে সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় যে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে যে কোনো কর্মস্থল বা পদে বদলি কিংবা পদায়ন করতে পারবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকরা চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও বর্তমান কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ না হলে সাধারণভাবে বদলির আবেদন করতে পারবেন না।

তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব আবেদন যৌক্তিকতা বিবেচনায় সরকার নিষ্পত্তি করবে।

নীতিমালায় স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকরিজীবী হলে একজনের কর্মস্থল বা নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্যজনের বদলি বা পদায়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এছাড়া অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক নিজের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলির আবেদন করলে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিতে হবে। অসম্পূর্ণ তথ্যসংবলিত আবেদন বা পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) হালনাগাদ না থাকলে সেই আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

আবেদন মূল্যায়নের সময় বিবেচনায় রাখা হবে—

আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা
পেশাগত প্রয়োজন
আবেদনকারী বা পরিবারের সদস্যদের দূরারোগ্য অসুস্থতা
নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব
অন্যান্য যৌক্তিক কারণ
প্রত্যন্ত অঞ্চলে পদায়নে অগ্রাধিকার

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, বদলির আবেদন নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আদেশ জারি করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোর শূন্য পদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বদলি ও পদায়নের ক্ষমতার আংশিক বিকেন্দ্রীকরণ।

এখন থেকে-

প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের ক্ষমতা থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের হাতে।
সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের ক্ষমতা থাকবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে।

এর আগে অনলাইন বদলি নীতিমালার আওতায় শিক্ষা ক্যাডারের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছেই কেন্দ্রীভূত ছিল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের ক্ষমতা মাউশির মহাপরিচালকের কাছে ন্যস্ত হওয়ায় আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।