প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:১০ (মঙ্গলবার)
মামলা করবো না, বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদে জবাব দিয়েছেন- বিউটি পাল

ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে রিল তৈরি করে ব্যাপক সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া সিলেটের শিক্ষিকা বিউটি পাল এবার নিজেই পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত একটি বিষয় নিয়ে তাকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রবাসে থাকা এক সাংবাদিক তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ হন। এরপরই ওই ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি রিল ভিডিও সংগ্রহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

বিউটি পাল জানান, তার পোস্টগুলো পাবলিক ছিল না; প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে শুধুমাত্র তার ফেসবুক বন্ধুদের জন্য দৃশ্যমান ছিল। তার ফ্রেন্ড লিস্টেও সীমিত সংখ্যক মানুষ রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একসময় কয়েকটি সংবাদপত্রের ফেসবুক পেজে লাইক দিতে গিয়ে ভুলবশত ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামে একটি অনলাইন পত্রিকা তার বন্ধু তালিকায় যুক্ত হয়ে যায়। তার দাবি, সেই ভুলেরই খেসারত তাকে দিতে হয়েছে।

তার অভিযোগ, ওই অনলাইন পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক তার ব্যক্তিগত এই রীল ভিডিও ডাউনলোড করে প্রকাশ করেন, যার ফলে দেশ-বিদেশের অসংখ্য বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি ব্যাপক নেতিবাচক সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন।

একটি ছোট্ট ভুল, হয়তো এক মুহূর্তের অসাবধানতা। কিন্তু সেই ভুলের মূল্য দিতে হয়েছে তাকে অনেক বড় পরিসরে। অজান্তেই যুক্ত হয়ে যাওয়া একটি অনলাইন মাধ্যম হয়ে ওঠে তার ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশের দরজা। সেই সুযোগে তার ব্যক্তিগত রিল ভিডিও ডাউনলোড করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এরপর শুরু হয় এক কঠিন অধ্যায়। ব্যক্তিগত মুহূর্ত হারিয়ে যায় জনসমুদ্রে, আর তিনি হয়ে ওঠেন দেশ-বিদেশের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পরিচিতি আসে, তবে তার সঙ্গে জুড়ে যায় তীব্র বিদ্রূপ, কটূক্তি ও নির্মম সাইবার বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা।

কিন্তু বিদ্রূপের সেই ঝড়ের মাঝেও অসংখ্য মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে শুরু করে প্রবাসী বাঙালি সমাজের অনেকেই তাকে সমর্থন জানিয়েছেন ভালোবাসা ও সহমর্মিতায়। কেউ প্রতিবাদের ভাষা খুঁজেছেন, কেউ সংহতির। অনেকে সেই একই গানে রিল তৈরি করে জানিয়েছেন; একজন মানুষের আনন্দ, প্রকাশ কিংবা সৃজনশীলতাকে বিদ্রূপের নয়, সম্মানের চোখেই দেখা উচিত।

গণমাধ্যমকে দেওয়া বিউটি পালের সাক্ষাৎকার 
‘আমি আমার এক সহকর্মীকে বলেছিলাম যে কিভাবে রীল বানায়? তো উনি আমাকে বলছিলেন আচ্ছা ঠিক আছে, আপনাকে আমার স্কুল আওয়ার শেষে হওয়ার পর আপনাকে আমি ভিডিও বানিয়ে দেবো । স্কুল শেষ হওয়ার পরে বলছেন একটু স্কুল আঙ্গিনার দিকে আমি হেটে গেছি। উনি ভিডিওটা করছেন। করার পর বলছেন আপনার কোন গানটা পছন্দ? আপনি এটা দিয়ে দিন। আমি বললাম শ্রাবণে মেঘের দিন। এটা দেওয়ার পর দেখি এটা সে শ্রাবণে মেঘের দিন আসছে।
আর আবহাওয়াটা ছিল এইরকম, মানে প্রকৃতিটা ছিল। আমার স্কুলটা কুশিয়ারা নদীর পাশে অবস্থিত। এটা খুব একটা মনোরম। ফেঞ্চুগঞ্জের ১ নং ইউনিয়নে অবস্থিত। এই স্কুলটা এমন কেউ নেই ফেঞ্চুগঞ্জের পছন্দ করে না। এবং আমি ফেঞ্চগঞ্জের মধ্যে প্রায় সব মানুষেই আমাকে ছোট বড় এমনকি শিশু পর্যন্ত একবারে  বৃদ্ধ বয়স্ক, ৭০ বছর পর্যন্ত মানুষ আমারে এত মায়া স্নেহ করে। আমার বাসা পর্যন্ত আসে। পাশের বাসার একজন শিক্ষিকা কয়েকদিন আগে মারা গেছেন। উনার শ্বশুড় ৭০ বছর বয়স্ক। এখনও আমার বাসায় ডাব দিয়ে যান। সবাই আমারে খুব বেশি মায়া করে। আমার এলাকা থেকেও এত বেশি প্রতিবাদ আসে নাই। ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে যতটুকু আসছে।’  

‘আমি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী বিভাগে পড়াশোনা করেছি। ২০১৩ তে সরাসরি প্রধান শিক্ষকে. . .অনেকে আমার কমেন্টের মধ্যে দেখা গেছে যে আমার প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা কি? উনি কিভাবে হলেন, উনার মতো চেংরা বয়সী কিভাবে প্রধান শিক্ষক হন? আমি আসলে সরাসরি যোগদানকৃত এবং বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে এসেছি। আমি হয়তো বা এইখানে না হয়ে অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে থাকার কথা আমার।’

তিনি বলেন, ‘আমি কয়েকটা পত্রিকারে লাইক দিতে গিয়ে আমার এড হয়ে গেছে। এড হওয়ার পরে ঐযে ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিনি নামের একটা পত্রিকা আছে ঐটা এডে চলে আসছিল। ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট চলে আসছিলো অনলাইন পত্রিকাটা। অনলাইন পত্রিকাটা ফ্রেন্ডলিস্টে থাকার সুযোগে আমার ভিডিওটা ডাউনলোড করে নিছে।’

‘ভিডিওটা ডাউনলোড করে বলছে আপনি যে স্কুলের আঙিনার মধ্যে এই রকম গান করছেন, এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? আপনি টিকটক ভিডিও করছেন। আমি বলছি কিন্তু এটা টিকটক না। এটা একটা রীল। এটা প্রাইভেসি মেনটেইন করে করছি। উনি ডাউনলোড করে বলছে এটার অভিমত কি? পরে আমি আমার অভিমতটা এই যে আপনারে যেরকম বললাম। আমার ভুল হয়ে গেছে। আসলে স্কুলের আঙিনায় এটা করা ঠিক হয় নাই। আমি রীল বানাইতে গিয়ে ভুল বশত আমি আমার পেইজে দিছিলাম। তো কেউ ডাউনলোড করার কথা না। আমার ফ্রেন্ড ছাড়া। এটা পাবলিক পোস্ট না।’

আপনাকে ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট দিয়েছিল একসেপ্ট করেন নাই। আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে চাইছিল। কি কথা বলতে চাইছিল? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে বিউটি পাল বলেন, ‘হ্যাঁ, উনার সাথে আমার একদিনই কথা হইছে?’

আর মামলার প্রস্তুতি বা মামলা করবেন কিনা? এই প্রশ্নে বিউটি পাল বলেন, ‘মামলা করবো না। সারা বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদে জবাব দিয়ে দিয়েছেন। উনার শাস্তি যথেষ্ট হয়ে গেছে। সরকারকে বিব্রত করতে চাইনা। দেশ ও সমাজ শান্তিতে থাকুক। শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো থাকুক ‘