দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সিলেটেও তীব্র গরমে জনজীবন হাঁসফাঁস অবস্থায় পড়েছে। টানা দুদিন ধরে প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে নগরবাসীর স্বস্তি নেই। তবে এর মধ্যেই বৃষ্টি নিয়ে নতুন খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেটসহ দেশের ১৪টি অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সকাল থেকে শুরু হওয়া তীব্র রোদের তাপ সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকছে। নগরজুড়ে গরমের দাপটে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রোববার ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও অনুভূত তাপমাত্রা এর চেয়েও বেশি ছিল। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র গরমের প্রভাবে নগরের সড়কগুলো দুপুরের দিকে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ছে। স্কুল-কলেজেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। তবে জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের বাধ্য হয়েই বের হতে হচ্ছে, ফলে গরমে তাদের দুর্ভোগ আরও বেশি। একটু স্বস্তির খোঁজে সড়কের পাশের শরবতের দোকানগুলোতে বেড়েছে ভিড়।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, চলমান তাপপ্রবাহ আরও অন্তত দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এর মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে আসবে এবং গরমের তীব্রতা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।