সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল-কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বুলিং ইস্যুতে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়ার ঢেউ উঠেছে। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষকই সাইবার বুলিংয়ের শিকার না হন এবং এ জন্য দ্রুত ‘শিক্ষক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে বিউটি রানী পাল তার পাশে দাঁড়ানো শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও সচেতন মানুষ গান, কবিতা ও সৃজনশীল প্রতিবাদের মাধ্যমে যে সংহতি দেখিয়েছেন, তা তাকে সাহস জুগিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দ্রুত শিক্ষক সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকই সাইবার বুলিং, মানহানি বা অনলাইন হয়রানির শিকার না হন এবং শিক্ষক সমাজ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”
সম্প্রতি বৃষ্টির গানের সঙ্গে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার পর সমালোচনা ও ট্রলের মুখে পড়েন এই শিক্ষিকা। ভিডিওটি পোস্ট করার পর একটি গোষ্ঠী তাকে নিয়ে বিভিন্নভাবে কটূক্তি ও হেনস্তা শুরু করে। এমনকি তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।
তবে এই পরিস্থিতিতে সহকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার পাশে দাঁড়ান। অভিনব প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অনেকে একই ধরনের ভিডিও তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে সংহতি প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম, শরীরচর্চা ও সৃজনশীল পাঠদানের বিভিন্ন ভিডিও দেখা যায়। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই তিনি একটি গানের সঙ্গে স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটার ভিডিও পোস্ট করলে সেটিকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনায় তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানা গেছে।