ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে পদযাত্রা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপির অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। দলটির নেতাকর্মীদের দাবি, পুলিশ ও র্যাবের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে তাদের মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়িটি ভাঙচুর করে। এ সময় সাংবাদিকদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, পদযাত্রা সফলভাবে শেষ করে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। হামলাকারীরা মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চালক ও সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে আরও বলেন, হামলায় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেউ হাত, কেউ পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ হামলাকে ‘ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
একই ঘটনায় ফেসবুকে দেওয়া পৃথক এক পোস্টে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে। এতে সাংবাদিক ও এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত।
এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা চলাকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এতে সাংবাদিক ও এনসিপির নেতাকর্মীরা আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।