প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৫৯ (বুধবার)
ইউরোপে বসে বেতন নিচ্ছেন সিলেটের শিক্ষক: সংবাদ করতে গেলে হা/মলা

ইউরোপের দেশ ডেনমার্কে অবস্থান করেও সরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত বেতন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সেনগ্রাম মোহাম্মদিয়া সালাফিয়া দাখিল মাদ্রাসার গণিত শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গত এক বছর ধরে তিনি মাদ্রাসায় একটি ক্লাস না নিয়েই প্রতি মাসে ২৫ হাজার ৪৪ টাকা হিসেবে মোট প্রায় ৩ লাখ ৫২৮ টাকা সরকারি বেতন নিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মাদ্রাসার সুপার ফয়েজুল ইসলামের সহযোগিতায় এই অনিয়ম চলছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ইমজানিউজ ডট কমের স্টাফ রিপোর্টার নয়ন নিমু ও কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার সিলেট ব্যুরো ইনচার্জ কবির আহমদকে হামলা ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই মাদ্রাসার সুপার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে হামলা করেন।

অনিয়মের অনুসন্ধানে তথ্য যাচাই করতে মাদ্রাসায় গেলে প্রথমে সুপার ফয়েজুল ইসলাম দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ দেখানো হলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, শিক্ষক ছয় মাসের ছুটিতে আছেন। এরপর সাংবাদিকদের আর কোনো প্রশ্ন না করতে হুমকি দিয়ে তিনি শিক্ষকদের ছাত্র ডাকার নির্দেশ দেন। সাংবাদিকরা অফিস থেকে বের হয়ে মাদ্রাসা মাঠে গেলেই কয়েকজন যুবক তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসব ঘটনার ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।  

এ ঘটনায় এলাকায় সিলেটে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যাঁদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা আদর্শ, নৈতিকতা ও সততার শিক্ষা নেয়, সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে শিক্ষার্থীদের সামনে কী বার্তা যাচ্ছে?

মাদ্রাসাটির সাবেক শিক্ষার্থী রাহিম আহমদ বলেন, “আমরা যখন এই মাদ্রাসায় পড়েছি, তখন মাহবুবুর রহমান স্যার গণিত পড়াতেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি ডেনমার্কে চলে যান। এরপরও সুপার ও কমিটির কয়েকজনের সহযোগিতায় তাঁর সরকারি বেতন তোলা হচ্ছে বলে জেনেছি। এটি খুবই দুঃখজনক। তিনি চলে যাওয়ার পর গণিতের ভালো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অভিভাবক আবু বক্কর আবুল জানান, “এলাকার সবাই জানে মাহবুবুর রহমান বিদেশে চলে গেছেন। তারপরও তাঁর সরকারি বেতন তোলা হচ্ছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ ছাড়া এটি সম্ভব নয়।” তিনি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষক ছুটিতে আছেন বলে শুনেছেন। তবে বিদেশে অবস্থান করেও সরকারি বেতন নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের আগস্টে ডেনমার্কে যান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপার ফয়েজুল ইসলাম ও সভাপতি ইসমাঈল হোসেন শামীমের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার ফয়েজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, ওই শিক্ষক চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন। পরে তিনি আবার ছয় মাসের ছুটিতে থাকার কথা বলেন। অন্যদিকে মাদ্রাসার সভাপতি ইসমাঈল হোসেন শামীম মুঠোফোনে জানান, শিক্ষক এক বছরের ছুটিতে রয়েছেন। তবে এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"অন্যদিকে, সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ইমজা নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"