ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৬২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো) বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ৪১৭ জনের ভিসা নবায়নের লক্ষ্যে তাদের তালিকা ইতোমধ্যে আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি জানান, অটো ক্যান্সেল হওয়া ৬২৬ জনের মধ্যে ৪১৭ জনের তথ্য ভিসা নবায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের তথ্যও পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে কোনো কর্মীর ভিসা বাতিল হলে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানেরও নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয় করে কাজ করছে।
তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজ দেশের পাশাপাশি কর্মস্থল দেশের আইনও সম্মান করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল বা রাজনৈতিক বিষয়ে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়া এবং কোনো ধরনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
জাল বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ভুয়া নথি ব্যবহার করলে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নয়, পুরো দেশের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হয়।
তিনি জানান, ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আইনে ভুয়া তথ্য বা জাল কাগজপত্র জমা দিলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে কর্মীদের ব্যয় অনেক বেশি। এ ব্যয় কমানো এবং দালালচক্রের প্রতারণা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি স্বতন্ত্র মাইগ্রেশন উইং গঠন করা হয়েছে।পি-ছাত্রদলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা