গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি গত সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী (১৩) ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থেকে জানা যায়, স্কুল চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ওই কিশোরী ও এক তরুণকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান সইতে না পেরে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে, ঘটনার চার দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, “ঘটনার দিন আমি স্কুলে ছিলাম না। পরে বিষয়টি শুনেছি। বিদ্যালয়ের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি আসলে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “ওইদিন শিক্ষার্থীটি স্কুলে আসেনি। স্কুলের পোশাক পরে অন্য এলাকা থেকে তাকে এক তরুণসহ কয়েকজন ধরে আনে। পরে স্কুল গেটের পাশে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষকরা তখন ক্লাসে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি টের পাননি। পরে নয়ন গোলদার তাদের স্কুল অফিসে নিয়ে আসেন এবং অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেন।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীকে ধরে আনার আগে কী ঘটনা ঘটেছিল তা তাদের জানা নেই।
এ ঘটনায় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদারসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত নয়ন গোলদার বলেন, “তাদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কিছু তরুণ তাদের নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের স্কুলে এনে অভিভাবকদের কাছে তুলে দিয়েছি। গাছে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।”
কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম বলেন, “নয়ন গোলদার আমাকে জানিয়েছে, সে ছেলে-মেয়েটিকে উদ্ধার করেছে। অভিযোগ যেহেতু উঠেছে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।”
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”