ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলাদেশের ভলিবল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্যের পথে হাঁটতে শুরু করেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই খেলাটি। সেই প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সদ্য সমাপ্ত সেন্ট্রাল এশিয়ান ভলিবল অ্যাসোসিয়েশন (কাভা) কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের রানার্সআপ হওয়ার কৃতিত্ব।
ছয় দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আসরে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানের কাছে পরাজিত হলেও রৌপ্যপদক জিতে দেশের ভলিবলে নতুন আশার সঞ্চার করেছেন হরষিত, মিলন, রিসালাত, তানভীর, আল আমিনরা। চার বছর আগে একই আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার এক ধাপ এগিয়ে রৌপ্য জয় দেশের ভলিবলের উন্নয়নেরই প্রতিফলন।
এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। কমিটির সভাপতি এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন সাদ্দাম, যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা লিংকন এবং কোষাধ্যক্ষ ইমরান হায়দার কাঞ্চনের নেতৃত্বে খেলোয়াড়দের পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সুফল মিলেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
দলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত নেতৃত্বে এসেই চমক দেখানো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন সাদ্দাম। তিনি বলেন, এই অর্জনের কৃতিত্ব শুধু খেলোয়াড় বা ফেডারেশনের নয়; এর পেছনে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ক্রীড়াবান্ধব সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। গত কয়েক মাসে খেলাধুলার উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা একজন তারকা ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হিসেবে পেয়েছি। আমিনুল ভাই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চিত্রই বদলে দিয়েছেন।’
সাদ্দাম আরও জানান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নবনিযুক্ত পরিচালক জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর দিকনির্দেশনাও এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতিই বাংলাদেশকে রৌপ্যপদক এনে দিয়েছে।
তার ভাষায়, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাই। তারা বিদেশের মাটিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। বর্তমানে খেলোয়াড়রা সরকারের প্রণোদনা, ক্রীড়াভাতা এবং ফেডারেশনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। ফলে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, কাভা কাপে বাংলাদেশের এই সাফল্য শুধু একটি রৌপ্যপদক অর্জনের গল্প নয়; এটি দেশের ভলিবলের সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। ধারাবাহিক পরিকল্পনা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে বাংলাদেশ।