প্রকাশিত : ০২ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৪১ (সোমবার)
ধর্ম ও বিয়েতে নারীর স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া যাবে না: ভারতের হাইকোর্ট

ছবি: ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ধর্ম গ্রহণ এবং পছন্দের সঙ্গী নির্বাচনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না বলে ঐতিহাসিক এক রায় দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী তার ধর্ম, বিবাহ এবং ভবিষ্যৎ জীবনের পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এ বিষয়ে বাবা কিংবা রাষ্ট্র- কারও হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।

হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণের পর দুই বোনের করা একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ রিটের শুনানিতে বিচারপতি সন্দীপ জৈন এই পর্যবেক্ষণ দেন।

মামলার নথিতে জানা যায়, ২০ বছর বয়সী দিব্যা ভাটিয়া (বর্তমান নাম জয়া দিয়া ভাটিয়া) এবং ৩৫ বছর বয়সী অংশু ভাটিয়া (বর্তমান নাম আমিনা অংশু ভাটিয়া) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাদের বাবা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং অভিযোগ ওঠে যে, স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ওই দুই বোনকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছে।

আদালত এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে উল্লেখ করে, যদি জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি সরাসরি সংবিধান প্রদত্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের লঙ্ঘন।

আদালত আরও স্পষ্ট করে যে, সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক তার পছন্দমতো জীবনসঙ্গী ও ধর্ম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবেন।

বর্তমানের প্রকৃত পরিস্থিতি ও দুই বোনের অবস্থান নিশ্চিত করতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তরপ্রদেশ কর্তৃপক্ষ এবং আবেদনকারীদের বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট দুই বোনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দিষ্ট দিনে তাঁদের হাজির করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ব্যক্তিগত হলফনামা জমা দিতে হবে। আগামী ৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।