সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুতই আসছে নবম জাতীয় পে স্কেল। সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি করা হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বিমত সত্ত্বেও সরকার দ্রুততম সময়ে এটি কার্যকরের পরিকল্পনা নিয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই এই গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল দেওয়ার পর দীর্ঘ ৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও নতুন কোনো কাঠামো আসেনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিজীবীদের মাঝে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পে কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২১ এপ্রিল গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
তবে এই বিশাল ব্যয়ের সংস্থান করা সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় আইএমএফ এই প্রক্রিয়া দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট আটটি পে স্কেল ঘোষিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রথম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ছিল ১৩০ টাকা, যা পর্যায়ক্রমে বেড়ে ২০১৫ সালে ৮ হাজার ২৫০ টাকায় দাঁড়ায়। নবম পে স্কেল কার্যকর হলে প্রায় ১৫ লাখ চাকরিজীবী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন যে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করতে বেশি সময় লাগবে না এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে।