বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি জেলা,-সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওর অববাহিকা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাদুপানির মৎস্য সম্পদ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এই অঞ্চলের ভূমিকা অপরিসীম হলেও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্থানীয় প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত নানা সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় হাওর অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র "হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়" প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘হাওর ভলান্টিয়ার্স বাংলাদেশ’।
হাওরবাসীর পক্ষে সংগঠনের আহ্বায়ক অসীম সরকারের স্বাক্ষরে প্রেরিত এই স্মারকলিপিতে ৭টি জেলার হাওরবাসীর সুনির্দিষ্ট সমস্যা এবং একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের যৌক্তিকতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। স্মারকলিপির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট ৭ জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে পাঠানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর পৃথকভাবে কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও একটি একক ও সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে হাওর অঞ্চলের জনগণের মূল সংকটগুলোর টেকসই সমাধান হচ্ছে না। প্রতিবছর চৈত্র-বৈশাখ মাসে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় বোরো ধান তলিয়ে যাওয়া, নিম্নমানের ফসল রক্ষা বাঁধ, নদীভাঙন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাহীন দুর্বলতা এবং জরুরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা হাওরবাসীকে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে রাখছে। তাছাড়া অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও অবাধে মাছ শিকারের ফলে হাওরের সংবেদনশীল জীববৈচিত্র্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে।
হাওর ভলান্টিয়ার্স বাংলাদেশের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো হাওরের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এখন সময়ের দাবি। প্রস্তাবিত "হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়" প্রতিষ্ঠিত হলে হাওরের জন্য বিশেষ ও সমন্বিত নীতি প্রণয়ন সম্ভব হবে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি হাওরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ইকো-ট্যুরিজম ও পরিকল্পিত মৎস্য-কৃষি ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। জাতীয় স্বার্থ ও হাওর অঞ্চলের চিরস্থায়ী সুরক্ষার লক্ষ্যে এই প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে হাওরবাসী।