ছবি: সংগৃহীত
বরগুনায় কারাগারে থাকা এক আসামির বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন সম্প্রতি দেওয়া এক আদেশে জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, এটি কেবল প্রক্রিয়াগত ভুল নয়, বরং মামলার তদন্তের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্তে অবহেলা ও ত্রুটির কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও আদালত উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বেতাগী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম, কারাগারে থাকা এক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।
পরে আদালতের নজরে আসে, ওই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চান।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যায় জানান, তথ্যদাতার দেওয়া ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে এ ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি এ জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
তবে আদালত ওই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে আদালতে তদন্তের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তথ্যদাতার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবেদন করেছিলেন। তথ্যগত ভুলের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে আদালতকে অবহিত করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।