প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১৭ (বৃহস্পতিবার)
কমনওয়েলথ গেমস শেষে ‘নিখোঁজ’ পাকিস্তান-উগান্ডার একাধিক অ্যাথলেট

ছবি: সংগৃহীত

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস শেষ হওয়ার পর নিজ দেশে ফেরার বদলে কয়েকটি দেশের একাধিক অ্যাথলেট নিখোঁজ হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ। ইতোমধ্যে ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট এনবিএস স্পোর্টস জানিয়েছে, উগান্ডা বক্সিং দলের চার সদস্য নির্ধারিত সময়ে দেশে ফেরার ফ্লাইটে ওঠেননি। নিখোঁজদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তাঁরা স্কটল্যান্ডেই রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

অন্যদিকে, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টুডে জানিয়েছে, পাকিস্তানের বক্সার কুদরাতউল্লাহও দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। কর্মকর্তারা তাঁর হোটেল কক্ষে গিয়ে তাঁকে খুঁজে পাননি।

স্কটল্যান্ড পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, বেশ কয়েকজন অ্যাথলেট নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় চলছে।

উগান্ডার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ চার বক্সার হলেন নুহু বাত্তে, অ্যাঞ্জেল কাটুশাবে, ইব্রাহিম কেমিস ও এমিলি নাকালেমা। এনবিএস স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করা এক বক্সার জানান, নিজ দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যে উন্নত প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাওয়ার আশাতেই তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের সিদ্ধান্তকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান।

গ্লাসগো ২০২৬ আয়োজক কমিটির মুখপাত্র সোফি অ্যাশক্রফট বলেন, গত দুই সপ্তাহে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার অ্যাথলেট গেমসে অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিতা শেষে সবাই যাতে নিরাপদে নিজ দেশে ফিরতে পারেন, সে জন্য পুলিশ স্কটল্যান্ড, বর্ডার ফোর্স এবং ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে।

কমনওয়েলথ গেমসে অ্যাথলেট নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসের পরও বেশ কয়েকজন প্রতিযোগী নিখোঁজ হন। তাঁদের অনেকে পরে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন।

সেবার উগান্ডার দুই রাগবি খেলোয়াড় নিখোঁজ হওয়ার পর কার্ডিফের একটি স্থানীয় ক্লাবের হয়ে খেলতে দেখা যায়। তাঁদের একজন ফিলিপ প্যারিও পরে ধর্ষণের দায়ে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

একই গেমসে ক্যামেরুনের ভারোত্তোলক সিরিল চ্যাচেটও নিখোঁজ হন। পরে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান এবং এবার ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে রৌপ্য পদকও জিতেছেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের পরিচয় ও পটভূমি কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে থাকে। এরপরই তাঁদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।