ছবি: সংগৃহীত
জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সিলেটের রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে এক আমূল পরিবর্তন। এক সময়ের প্রতাপশালী সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা এখন চরম বিপর্যস্ত এবং দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে কেউ পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে, কেউবা কারাবন্দি। আবার কেউ কেউ দেশে থাকলেও লোকচক্ষুর অন্তরালে আত্মগোপনে রয়েছেন।
সিলেটের চার জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময়ের মাঠ কাঁপানো চার প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ, সাবেক পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. মাহবুব আলী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তাদের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও সহিংসতার একাধিক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিতর্কিত মন্তব্য করা ড. এ কে আব্দুল মোমেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সিলেটের সাবেক প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব বর্তমানে যুক্তরাজ্যে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ক্ষমতাচ্যুত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক এমপি মো. আবু জাহির, মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এবং সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ভারত ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
তবে ব্যতিক্রমী অবস্থানে আছেন সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিক। গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে তারা আদালতের জামিনে নিজ এলাকায় অবস্থান করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং জয়া সেনগুপ্তা দেশে থাকলেও রয়েছেন সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর অন্তরালে। গ্রেফতার আতঙ্কে তারা ঠিক কোথায় আছেন, তা পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট করছেন না। আল ইসলাহ নেতা মাওলানা মোহাম্মদ হুসামুদ্দীন চৌধুরী এলাকায় থাকলেও রাজনীতিতে বর্তমানে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।