প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৫ (শুক্রবার)
সিলেটে দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট, বর্জ্য হবে জ্বালানি

ছবি: সিসিক

সিলেট: দেশের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরীর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সিসিকের উদ্যোগে স্থাপন করা হচ্ছে দেশের প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এ প্ল্যান্ট চালু হলে বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ এবং নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে গৃহস্থালি বর্জ্য, স্যুয়ারেজ স্লাজ ও কৃষিজ বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত অপসারণ করা হয়। এতে বর্জ্যের আর্দ্রতা কমে গিয়ে তা উচ্চ তাপমাত্রাসম্পন্ন বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের উপযোগী হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মতো উচ্চ আর্দ্রতাসমৃদ্ধ বর্জ্যের জন্য এ প্রযুক্তিকে অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্ল্যান্টটি চালু হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ল্যান্ডফিলে বর্জ্যের চাপ কমবে, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে, একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরামর্শক মো. শাহীন আহমেদ খান, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দেশের প্রথম এ বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট সফলভাবে চালু হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ সুগম হবে। এতে বর্জ্যকে সমস্যা নয়, বরং সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।