মৌলভীবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মতিন মিয়া হত্যা মামলার এক আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
র্যাব সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার জেলার সদর মডেল থানাধীন শমসেরগঞ্জ দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা মতিন মিয়ার (৫৮) সঙ্গে তার স্বজনদের দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গত ২৮ জুন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মতিন মিয়া আদালতে চলমান মামলায় সাক্ষ্য দিতে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সাক্ষ্য প্রদান শেষে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
সেদিন রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে প্রতিবেশী ও চাচাতো ভাই সালিকের মাধ্যমে মতিন মিয়ার স্ত্রী জানতে পারেন, সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশে একটি পাকা সড়কের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় একটি লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মতিন মিয়ার মরদেহ শনাক্ত করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-২ শ্রীমঙ্গল এবং সদর কোম্পানি সিলেটের একটি যৌথ দল ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন হুমায়ন চত্বর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় মামলার অন্যতম আসামি বালাগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে মোস্তাফা মিয়া (৪৪) কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৯ এর অতিঃ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, মোস্তাফা মিয়া বিবাদী পক্ষের আত্মীয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।