ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিশাল আকৃতির একটি পদ্মগোখরা ও একটি দাঁড়াশ সাপ অবমুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরীর উপস্থিতিতে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সাপ দুটি প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে কুমিল্লা জেলা থেকে উদ্ধার করা সাপ দুটি স্নেক রেসকিউ টিম ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের কর্মীরা চুনারুঘাটে নিয়ে আসেন। পরে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মগোখরা প্রধানত নিশাচর সাপ। রাতে খাবারের সন্ধানে বেশি বের হয়। সাধারণত মানুষের উপস্থিতি টের পেলে এরা সরে যেতে চায়। তবে কোণঠাসা বা বিরক্ত করা হলে ফণা মেলে, গলা ফুলিয়ে সতর্ক সংকেত দেয় এবং প্রয়োজন হলে ছোবল দেয়। এর বিষ নিউরোটক্সিক, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত অচল করে দিতে পারে।’
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের হবিগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘পদ্মগোখরা বা খৈয়া গোখরা সাধারণত প্রকৃতিতে ১০ থেকে ২০ বছর বেঁচে থাকে। তবে অনুকূল পরিবেশ ও যথাযথ পরিচর্যা পেলে বন্দিদশায় ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। বনে খাদ্য সংকট, প্রাকৃতিক শিকারি এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে এদের আয়ু অনেক সময় কমে যায়।’
সাপ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বন বিভাগ জানিয়েছে, বন্য প্রাণী উদ্ধারের পর উপযুক্ত আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের উদ্যোগ বন্য প্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।