ছবি: সংগৃহীত
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। পাঁচ দিনের শেষে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সুরমা নদীর কানাইঘাট এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি, অমলশীদ ও শেওলা পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। পাশাপাশি ভারতের উজানের মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানির প্রবাহ আরও বাড়াতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে।